চলমান করোনা আতঙ্কের মাঝেই বাংলাদেশের পরিসংখ্যানবিদরা রয়েছেন অন্য আতঙ্কে। করোনা ভাইরাসের প্রকোপ ও বিস্তার রোধ করতে দেশে পাঁচ দফা পর্যন্ত ছুটির মেয়াদ বৃদ্ধি করে সর্বশেষ তা ৫ ই মে পর্যন্ত করা হয়েছে।

এদিকে এতো লম্বা ছুটি পেয়ে অবিবাহিত ব্যাচেলরদের অনেকেই নতুনে বিয়ে করছেন। এসব বিবাহিত রা পার করছেন রোমান্টিক ও আনন্দময় মূহুর্ত। কিন্তু বর্তমানে অনেক জায়গায় দোকান বন্ধ থাকায় মানুষ জন্ম নিয়ন্ত্রণ করার কোনো সরঞ্জাম কিনতে পারছে না। ফলে বাড়ছে প্রেগন্যান্সির হার। যার ফলে বৃদ্ধি পাবে দেশের জনসংখ্যা এমন কথাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

আমরা বিভিন্ন বিবাহির দম্পতির সাথে কথা বলে জানতে পেরেছি যে তারা তাদের এই বন্ধের সময় টুকু নীজের জীবনসঙ্গীর সাথে আনন্দ করে কাটাতে চায়। কিন্তু তারা জন্ম নিয়ন্ত্রণে সচেন থাকলেও পাচ্ছে না প্রয়োজনীয় সামগ্রী। তারা প্রশ্ন ছূড়ে দিয়ে বলেন, “তাহলে কি আমরা এই সামান্য কারণে জীবনঙ্গীর সাথে আনন্দ করবো না?”
তাদের অনেকে দাবি জানান সরকারের উচিত প্রত্যেকের ঘরে ঘরে জন্ম নিয়ন্ত্রণের জন্য দরকারী সামগ্রী পাঠিয়ে দেয়া।”

উক্ত ব্যাপারে জনসংখ্যা ও জন্ম নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের সিনিয়র সচিব আবুল কাশেম <b>গুরু সারকাজম</b>কে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে আমাদের জানান, “আমরা জনসংখ্যা ও জন্ম নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। আমরা প্রত্যেক দম্পতির বাড়িতে বাড়িতে প্রয়োজনীয় জন্ম নিয়ন্ত্রণ সামগ্রী পাঠিয়ে দেয়ার ব্যাবস্থা করছি।” এ ব্যাপারে দূর্নীতির ব্যাপারে তিনি বলেন, “দূর্নীতির ব্যাপারে আমরা আগে থেকেই অত্যন্ত কঠোর। এ ব্যাপারে কোনো দূর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। কেউ যদি দূর্নীতিতে জড়ায় এবং উপযুক্ত প্রমান পাওয়া যায় তাহলে সাথে সাথে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করতে আমারা বাধ্য হবো।”

বাংলাদেশে এই লক ডাউনে জনসংখ্যা বৃদ্ধির আতঙ্কে রয়েছেন জাতিসংঘের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ সংস্থা “জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (The United Nations Population Fund) সংক্ষেপে ইউএনএফপিএ (UNFPA)” এর প্রধান নাতালিয়া কানেম (Natalia Kanem) বলেন, “আমরা পরিসংখ্যান করে দেখেছি বাংলাদেশে লকডাউনের কারনে দেশটির জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেতে পারে প্রায় দ্বিগুন। যা এই ছোট দেশটির জন্য অনেক। ইতোমধ্যেই দেশটির প্রতি বর্গ কিলোমিটারে প্রায় ১০৬৪ জন বাস করে। তাহলে এর দ্বিগুন হলে কি পরিমান সমস্যা হবে তা তো আর আপনাদের বুঝতে বাকি নেই।” বাংলাদেশকে ই ব্যাপারে সাহায্য করার ব্যাপারে তিনি বলেন, “বাংলাদেশকে সাহায্য করতে আমরা সর্বদা প্রস্তুত আছি।”