২০১৯ সালের প্রথম দিকে সাদিয়ার সাথে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয় জিহাদের। এরপর তাদের মধ্যে হয় গভীর বন্ধুত্ব। এক পর্যায়ে গত বছরের জুনের দিকে তাদের মধ্যে রিলেশন হয়। রিলেশনের মাত্র ৯ মাসের মাথায় জিহাদের সাথে ব্রেক আপ হয় সাদিয়ার। কারণ সাদিয়া জেনে গিয়েছিল যে জিহাদের কোনো পুরুষাঙ্গ নেই। জিহাদ সাদিয়াকে খুব বুঝানোর চেষ্টা করলো যে সে সাদিয়াকে খুব ভালোবাসে। কিন্তু সাদিয়া কোনো ভাবেই তার কথা মানে না এবং বলে যে তুমি আমার চোখের সামনে আর কোনো দিন আসবা না, আমি তোমার মুখ আর দেখতে চাই না। এরপর থেকেই বিড়ি থেকে শুরু করে বাবা, গাঞ্জা, ইয়াবা, ফেন্সিডিল সবই খাওয়া শুরু করে জিহাদ।

আজ ২৪ এপ্রিল, চলমান করোনা পরিস্থিতির মধ্যেই জিহাদ কচু গাছে গলায় দড়ি দেয়। এসময় এলাকার কিছু লোকজন তাকে দেখে ফেলে এবং অ্যাম্বুলেন্সে করে দ্রুত হাসপাতালে নেয়। এতে অল্পের জন্য বেঁচে যায় জিহাদ।

তদন্তে থাকা পুলিশ মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দীন গুরু সারকাজমকে দেয়া একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। যদি তার আত্মহত্যার চেষ্টার পিছনে সাদিয়ার সত্যিই কোনো হাত থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

জিহাদের চিকিৎসা দেয়া ডাক্তার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আমাদের বলেন, “জিহাদ কচু গাছে গলায় দড়ি দেয়ার আগে প্রায় ৪০ টি টেস্টি হজমী খেয়েছিল।”

জিহাদের মা বলেন, “আমি জিহাদরে আগেই সাবধান করছিলাম। আমি ওরে বলছিলাম তুই সাদিয়ারে ভুইলা যা। ওয় ভালো মাইয়া না।”

জিহাদের বাবা বলেন, “আমি জিহাদকে বার বার নিষেধ করেছি। তা সত্ত্বেও ও ঐ মেয়ের সাথে রিলেশন রেখেছে।”

জিহাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু আরাফাত আমাদের বলেন, “আমি জিহাদকে বলেছিলাম দোস্ত তুই সাদিয়ারে ভালোবাসোস ভালো কথা কিন্তু কন্ট্রোলে রাখিস আজকালকার মেয়েদের তো আর বিশ্বাস করা যায় না।”

জিহাদের আরও এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু আফনান আমাদের জানান, “আমি ওরে বুঝাইছিলাম, সাদিয়া ছ্যাঁকা দিছে তো কি হইছে? তোর ওর চেয়ে আরও ভালো মাইয়া পাবি। কিন্তু ও তো কিছুতেই বুঝলো না।”

এদিকে যাকে নিয়ে এতো সব ঘটনা সেই সাদিয়া বলেন, “আমিও জিহাদকে খুব ভালোবাসতাম। কিন্তু যখন আমি জানলাম ও আসলে পুরুষ না, ওর কোনো পুরুষাঙ্গ নেই তখন আমি ওকে না করে দিয়েছি। আপনারাই বলুন যে ছেলের পুরুষাঙ্গ নেই সেই ছেলেকে কিভাবে বিয়ে করবো?”